KOFIPOST

KOFIPOST

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাবেন, জেনে নিন অতিরিক্ত লবন খাওয়ার ক্ষতিকর দিকগুলো!

ডেস্ক রিপোর্ট
অ+
অ-
প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাবেন, জেনে নিন অতিরিক্ত লবন খাওয়ার ক্ষতিকর দিকগুলো!

লবণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে একটি অপরিহার্য উপাদান, যা শুধু খাবারের স্বাদই বৃদ্ধি করে না, বরং আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের রটগার্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল ব্রেসলিনের মতে, লবণ আমাদের শরীরের নিউরন, মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পেশি, ত্বক এবং হাড়সহ সব কার্যকর কোষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। লবণে থাকা সোডিয়াম আমাদের লালায় দ্রবীভূত হয় এবং স্বাদ কোষে প্রবেশ করে তাদের সক্রিয় করে, যা আমাদের চিন্তা ও অনুভূতিকে উদ্দীপিত করে।


ক্যালসিয়ামের মতো সোডিয়ামও আমাদের শরীর সংরক্ষণ করতে পারে না। তাই শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে গেলে লবণ খাওয়াই একমাত্র সমাধান। সোডিয়ামের অভাব হলে হাইপোনাট্রেমিয়া দেখা দিতে পারে, যা বিভ্রান্তি, বমি, খিঁচুনি এবং এমনকি কোমায় যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।


তবে লবণ শুধু স্বাদই বৃদ্ধি করে না, এটি খাবারের চেহারা এবং ঘ্রাণেও প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, পাউরুটি বানানোর সময় লবণ ব্যবহার না করলে তা ফ্যাকাসে দেখায় এবং সতেজ ঘ্রাণ আসে না। লবণ পাউরুটির বাদামি রঙ এবং ঘ্রাণ নিয়ে আসে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন ব্যক্তির দৈনিক ৫ গ্রামের বেশি লবণ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা প্রায় ২ গ্রাম সোডিয়ামের সমতুল্য। তবে বিশ্বব্যাপী গড় লবণ গ্রহণের পরিমাণ প্রায় ১১ গ্রাম, যা সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, গ্যাস্ট্রিক, ক্যান্সার, অস্টিওপোরোসিস, স্থূলতা এবং কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, লবণ বেশি গ্রহণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১৯ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।


অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্লেয়ার কলিন্সের মতে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করলে শরীর অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে লবণের প্রভাব ব্যক্তির জিনগত বৈশিষ্ট্যের উপরও নির্ভর করে।


কিছু দেশে লবণ বেশি খাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যেমন কাজাখস্তানে একজন ব্যক্তি গড়ে প্রায় ১৭ গ্রাম লবণ গ্রহণ করে। এটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক কারণেও হতে পারে, যেমন খাবার সংরক্ষণের জন্য লবণের ব্যবহার।


লবণ খাওয়া কমানোর জন্য কম লবণযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ানো এবং খাবারের ডায়েরি বা অ্যাপ ব্যবহার করে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ট্যাগস:

লবণস্বাস্থ্য

কফিপোস্টের সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল অনুসরণ করুন।

© কফিপোস্ট ডট কম

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন